i-Health News

Health News Update

Breaking

Showing posts with label Physical Health. Show all posts
Showing posts with label Physical Health. Show all posts

Monday, December 23, 2013

11:28 PM

গ্যাস্ট্রিক সমস্যা ও সহজ সমাধান (Gastric and it's treatment)

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভুগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ঔষধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে যদি এর নিরাময় করা যায়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার দরকার হয় না।

এরকম কিছু উপাদানের কথা জেনে নেয়া যাক:

লং (Clove)
যদি আপনি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় জর্জরিত হয়ে থাকেন, তবে লং হতে পারে আপনার সঠিক পথ্য। দুইটি লং মুখে নিয়ে চিবাতে থাকুন, যেন রসটা আপনার গলার ভেতরে যায়। দেখবেন এসিডিটি দূর হয়ে গেছে।

জিরা (Cumin)
এক চা চামচ জিরা নিয়ে ভেজে ফেলুন। এবার এটিকে এমন ভাবে গুড়া করুন যেন পাউডার না হয়ে যায়, একটু ভাঙা ভাঙা থাকে। এই গুড়াটি একগ্লাস পানিতে মিশিয়ে প্রতিবার খাবারের সময় পান করুন। দেখবেন কেমন ম্যাজিকের মতো কাজ করে।

গুড় (Jaggery)
গুড় আপনার বুক জ্বালাপোড়া এবং এসিডিটি থেকে মুক্তি দিতে পারে। যখন বুক জ্বালাপোড়া করবে সাথে সাথে একটুকরো গুড় মুখে নিয়ে রাখুন যতক্ষণ না সম্পূর্ণ গলে যায়। তবে ডায়বেটিস রোগিদের ক্ষেত্রে এটি নিষিদ্ধ।

মাঠা (Buttermilk)

দুধ এবং মাখন দিয়ে তৈরী মাঠা একসময় আমাদের দেশে খুবই জনপ্রিয় ছিল। এসিডিটি দূর করতে টনিকের মতো কাজ করে যদি এর সাথে সামান্য গোলমরিচ গুঁড়া যোগ করেন।

পুদিনা পাতা (Mint)
পুদিনা পাতার রস গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করতে বহুদিন ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রতিদিন পুদিনা পাতার রস বা পাতা চিবিয়ে খেলে এসিডিটি ও বদহজম থেকে দূরে থাকতে পারবেন।

বোরহানী (Raita)
টক দই, বীট লবণ ইত্যাদি নানা এসিড বিরোধী উপাদান দিয়ে তৈরী বলে এটি হজমে খুবই সহায়ক ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিন ভারী খাবারের পর একগ্লাস করে খেতে পারলে আপনার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা অনেকাংশে দূর হবে।

তুলসী পাতা (Basil)
হাজারো গুণে ভরা তুলসী পাতার কথা আপনারা সবাই জানেন। এসিডিটি দূর করতেও এর ভূমিকা অনন্য। যখন গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হবে ৫-৬ টি তুলসী পাতা চিবিয়ে খেলে দেখবেন এসিডিটি কমে গেছে। তুলসী পাতা যে প্রতিদিন ব্লেন্ড করে পানি দিয়ে খাবেন, তার এসিডিটি হওয়ার প্রবনতা অনেক কমে যাবে।
আদা (Ginger)
আদাও এমন একটি ভেষজ উপাদান যা আমাদের অনেক কাজে লাগে। প্রতিবার খাদ্য গ্রহনের আধা ঘন্টা আগে ছোট এক টুকরো আদা খেলে দেখবেন আপনার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা গায়েব হয়ে গেছে।
দুধ (Milk)
দুধের মধ্যে আছে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম, যা পাকস্থলীর এসিড কমাতে সাহায্য করে। রাতে একগ্লাস দুধ ফ্রিজে রেখে দিয়ে পরদিন সকালে খালি পেটে সেই ঠান্ডা দুধটুকু খেলে সারাদিন এসিডিটি থেকে মুক্ত থাকা যাবে। তবে কারো পেট দুধের প্রতি অতিসংবেদনশীল, এদের ক্ষেত্রে দুধ খেলে সমস্যা আরো বাড়তে পারে।

ভ্যানিলা আইসক্রিম (Vanilla Ice cream)
আইসক্রিম খেতে আমরা সবাই পছন্দ করি। কিন্তু আপনি কি জানেন ভ্যানিলা আইসক্রিম শুধু আমাদের তৃপ্তিই যোগায় না, সাথে এসিডিটি দুর করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে! কি এটা শুনে আইসক্রিম খাওয়া আরো বাড়িয়ে দিলেন নাকি? তবে সাবধান আবার ঠান্ডা লাগিয়ে ফেলবেন না কিন্তু। সূত্র: প্রথম সংবাদ, ২১ ডিসেম্বর ২০১৩।

Friday, December 13, 2013

7:29 AM

অ্যাজমা কমানোর কিছু পরামর্শ



শীতের সময় বক্ষব্যাধি রোগীদের ব্যাপারে যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হয়। বিশেষ করে যাদের অ্যাজমা বা হাঁপানি রয়েছে তাদেরকে হতে হয় অতি যত্নবান। শুধু ডাক্তারের ওপর নির্ভর করলেই হবে না নিজেদেরকেও কিছু নিয়ম কানুন পালন করতে হবে। তাহলেই অ্যাজমা বা হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে। অ্যাজমা কমানোর কিছু পরামর্শ দেওয়া হলো-
১. ধূমপান করবেন না। ধূমপায়ী ব্যক্তিকে এড়িয়ে চলুন। ২. শয়নকক্ষে খুব বেশি মালামাল রাখবেন না। ৩. ঘরের সম্ভাব্য সব কিছু ঢেকে রাখবেন, যাতে ধুলাবালি কম উড়ে। ৪. টিভি, মশারি স্ট্যান্ড, সিলিং, পাখার উপর জমে থাকা ধুলোবালি সপ্তাহে একবার অন্য কাউকে দিয়ে পরিষ্কার করে নিন। ৫. শোকেস বা বুক সেলফে রাখা পুরনো খাতা, ফাইল, বইপত্র অন্য কাউকে দিয়ে ঝেড়ে নিন। ৬. বাস, মোটর গাড়ি বা যানবাহনের ধোঁয়া থেকে দূরে থাকবেন। ৭. উগ্র সুগন্ধি ব্যবহার করবেন না। তীব্র দুর্গন্ধ, ঝাঁঝালো গন্ধ থেকে দূরে থাকুন। ৮. বাসায় হাঁস-মুরগি, বিড়াল, কুকুর, পোষাপ্রাণী যেন না থাকে এবং এগুলোর সঙ্গে মেলামেশা করবেন না। ৯. বাড়িতে ফুলের গাছ লাগাবেন না। ১০. ঘাসের ওপর বসে থাকা পরিহান করুন। নিজে ঘাস বা গাছ কাটবেন না। ১১. শীতে গরম পানি দিয়ে গোসল করবেন এবং মাপলার ব্যবহার করবেন। ১২. শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন। জোরে শ্বাস টানুন, প্রায় ১৫ সেকেন্ড শ্বাস ধরে রাখুন। দুই ঠোঁট শীষ দেওয়ার ভড়িতে আনুন এবং ধীরে ধীরে মুখ দিয়ে শ্বাস ফেলুন প্রতিদিন সকাল ও বিকাল ১০ মিনিট করে মুক্ত পরিবেশে। ১৩. সর্বদা ভয় ও চিন্তামুক্ত থাকার চেষ্টা করুন এবং কখনো হতাশাগ্রস্ত হয়ে ভেঙে পড়বেন না। ১৪. ছোট বাচ্চারা লোশম পুতুল নিয়ে খেলা করবে না। ১৫. ঘর ঝাড়ু দেবেন না। ঘর ঝাড়ু দিতে হলে মাস্ক, তোয়ালে বা গামছা দিয়ে নাক বেঁধে নেবেন। ১৬. কাশি শক্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শমতো অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খাবেন। ১৭. ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি/পানীয় কম খাবেন। হালকা গরম পানি পান করবেন। ১৮. Aerosol বা মশার কয়েল বা Insecticide ঘরে ব্যবহার করবেন না। ১৯. বিছানার চাদর বা বালিশের কভার পাঁচ দিন পর পর ধুয়ে ব্যবহার করবেন। ২০. মশারি সপ্তাহে একবার ধুঁয়ে ব্যবহার করবেন। ২১‌. যদি কোনো খাবারে সমস্যা হয়, যেমন-গরুর মাংস, ইলিশ মাছ, চিংড়ি, হাঁসের ডিম, বেগুন, কচু, পাকা কলা, আনারস, নারিকেল ইত্যাদি কম খাবেন/খাবেন না। ২২. সর্বদা ধুলাবালি থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন। ২৩. অ্যালার্জি ও অ্যাজমা কোনো কঠিন রোগ নয়, একটু মনোযোগী হলেই এটি নিয়ন্ত্রণে রেখে সম্পূর্ণ সুস্থ থাকা সম্ভব। ২৪. ডাক্তারের দেওয়া সব নিয়ম/পরামর্শ/ব্যবস্থাপত্র যথাসম্ভব মেনে চলুন। ২৫. শীতকালে অ্যাজমা রোগীদের বেশি সতর্ক থাকতে হবে। সূত্রঃ দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন, ৭ ডিসেম্বর ২০১৩।

Saturday, November 23, 2013

10:08 AM

অনিয়মিত হৃদস্পন্দন



সুস্থ মানুষের হৃৎপিণ্ড স্বাভাবিক অবস্থায় সুন্দর একটি তালে চলে, এই তালকে হৃদস্পন্দন বলে। যদি কোনো কারণে এই তালে বেতাল ঘটে বা হৃৎপিণ্ড এলোমেলোভাবে চলে অথবা থেমে থেমে কিংবা খুব দ্রুত বা খুব আস্তে চলে, তাকে অনিয়মিত হৃদস্পন্দন বলে। প্রতিবার হৃৎপিণ্ড সংকোচন শুরু করার পূর্বে একটি বৈদ্যুতিক সংকেতের প্রয়োজন হয়। এই বৈদ্যুতিক সংকেত হৃৎপিণ্ডের একটি নির্দিষ্ট অংশ থেকে উৎপত্তি হয়ে থাকে, যাকে পেসমেকার বলা হয়। সাধারণভাবে বলা যেতে পারে, প্রায় সব ক্ষেত্রেই বৈদ্যুতিক সংকেতের ত্রুটির কারণেই অনিয়মিত হৃদস্পন্দন হয়ে থাকে।

অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের প্রকারভেদ
চার ধরনের অনিয়মিত হৃদস্পন্দনই বেশি পরিলক্ষিত হয়।

প্রিম্যাচুর বিট/ড্রপবিট
যা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এ ধরনের অনিয়মিত হৃদস্পন্দনে নাড়িতে হঠাৎ করে একটি বিট মিস হয়ে থাকে, অনেক সময় রোগী নিজেই এটা বুঝতে পারে। এটা প্রায় সময় ক্ষতিকর বলে বিবেচিত হয় না। তবে যদি খুব বেশি ঘনঘন হতে থাকে তাহলে এ থেকে বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ হতে পারে, যেমন-দুর্বল লাগা, মাথা ঘোরা, বুক ধড়ফড় করা ইত্যাদি। এতে রোগী উৎকন্ঠিত এবং দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হতে পারে, সবল মানুষেও এ ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।

সুপ্রাভেন্ট্রিকুলার টেকিকার্ডিয়া
এক ধরনের অনিয়মিত হৃদস্পন্দন। এক্ষেত্রে হঠাৎ হৃৎপিণ্ডের গতি বৃদ্ধি পায় বা হৃৎপিণ্ড খুব দ্রুতগতিতে চলতে থাকে, রোগীর বুক ধড়ফড় করা, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট, অস্থিরতা, শরীর ঘেমে যাওয়া, কখনো কখনো বুকে ব্যথা অনুভূত হওয়া এমনকি খুব মারাত্মক অবস্থায় রোগী অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারে। কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই কিছুক্ষণ পর এসব উপসর্গ দূরীভূত হয়ে যেতে পারে এবং রোগী স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে।

ভ্যানট্রিকুলার অনিয়মিত হৃদস্পন্দন
এটা দু’ধরনের হয়ে থাকে। ভ্যানট্রিকুলার টেকিকার্ডিয়া ও ভ্যানট্রিকুলার ফিব্রিলেশন মারাত্মক ধরনের অনিয়মিত হৃদস্পন্দন যার ফলে মানুষ প্রায়ই মৃত্যুর মুখে পতিত হয়। হার্ট অ্যাটাক এ ধরনের অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের অন্যতম কারণ। কখনো কখনো খুব বেশি ভয় পাওয়া, ইলেকট্রিক শক, হঠাৎ দুর্যোগে পতিত হওয়ার জন্য এ অনিয়মিত হৃদস্পন্দন হতে পারে।

হৃৎপিণ্ডের গতি কমে যাওয়া
হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন বা নাড়ির গতি প্রতি মিনিটে ৬০ বার এর চেয়ে কমে আসাকে ব্রেডিকার্ডিয়া বলে। এর অন্যতম কারণ হার্ট অ্যাটাক। অন্যান্য কারণের মধ্যে বার্ধক্যজনিত কারণ, হার্ট ব্লক, থাইরয়েড গ্ল্যান্ডের সমস্যা, রক্তে লবণ পানির ভারসাম্য নষ্ট হওয়া এবং বেশ কিছু মেডিসিনের প্রভাবে এ ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। উপসর্গ হিসেবে খুব দুর্বলতা অনুভব হওয়া, মাথা ঘোরা বা মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হওয়া। শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে ও ক্ষেত্রবিশেষে রোগীর খিঁচুনি এবং মারাত্মক অবস্থায় রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন, ২৭ জুলাই ২০১৩।

Friday, November 22, 2013

9:56 PM

স্ট্রোক প্রতিরোধর উপায়

স্ট্রোক একটি ব্রেনের রোগ, যা ব্রেনের রক্তনালী বন্ধ হয়ে বা ফেটে গিয়ে হয় এবং প্রকাশিত লক্ষণ ২৪ ঘন্টার চেয়ে বেশি বিদ্যমান থাকে। এর ফলে মস্তিষ্কের অভ্যন্তরের কোষগুলো প্রয়োজনীয় অক্সিজেন এবং পুষ্টি পায় না, ফলে দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। অনেকের ধারণা স্ট্রোক হার্টের রোগ, আসলে এটা ব্রেনের রোগ; তাই কখনোই এটাকে হার্ট স্ট্রোক বলা যাবে না। অধুনা ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাক ও ব্রেইন অ্যাটাক নামে এ দুই রোগকে মানুষ চিনবে। মোট স্ট্রোকের ৮৫ ভাগ ক্ষেত্রেই রক্তবাহী নালী বন্ধ হয়ে হয়, যাকে বলে সেরিব্রাল ইনফারক্ট। বাকি ১৫ ভাগ হয় রক্তনালী ফেটে গিয়ে, যাকে বলে হেমোরেজিক স্ট্রোক। রক্তবাহী নালী বন্ধ হয় তিনভাবে। প্রথমত, মধ্যম মাপের ব্রেনের ভিতরের রক্তনালীর গায়ে কোলেস্টেরল জমে আস্তে আস্তে বন্ধ হয়ে যায়। দ্বিতীয়ত, ব্রেনের বাইরের বড় মাপের রক্তনালীর গায়ে কোলেস্টেরল জমে আস্তে আস্তে নালীর পথ কমে যায়। কমতে কমতে এক পর্যায়ে ৬০ শতাংশের ওপরে গেলে ওখানে রক্তপ্রবাহ কমে গিয়ে রক্ত জমাট বাঁধে। জমাট রক্ত ছুটে গিয়ে ব্রেনের মধ্যে ঢুকে যায় এবং ছোট বা মধ্যম মাপের রক্তনালীতে ঢুকে বন্ধ করে দেয়। ব্রেনকলাতে রক্ত না যেতে পারার জন্য ওই অংশটি মারা যায় এবং স্ট্রোক হয়। তৃতীয়ত, হার্টের গতিতে কোনো সমস্যা বা হার্টের অ্যাটাক হলে ওখানে রক্ত জমে যায়। সেই জমাট বাঁধা রক্ত হার্ট থেকে মহাধমনি হয়ে ক্যারটিড ধমনিতে ঢুকে পড়ে। সেখান থেকে ব্রেনের মধ্যে ঢুকে ব্রেনের মধ্যম বা ছোট মানের রক্তবাহী নালী বন্ধ করে এবং স্ট্রোক হয়।

ট্রান্সিয়েন্ট ইসকেমিক অ্যাটাক
স্ট্রোকের উপসর্গগুলো ২৪ ঘন্টা বা তার কম সময়ে ভালো হয়ে গেলে তাকে ট্রান্সিয়েন্ট ইসকেমিক অ্যাটাক বলা হয়। এতে রোগীর মস্তিষ্ক স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। কিন্তু এটি স্ট্রোকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক বার্তা। গবেষণায় দেখা যায়, এতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই কিছু দিনের মধ্যে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়।

স্ট্রোকের ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া এত বেশি যে, এটার প্রতিরোধ করা জনস্বার্থের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রাথমিক প্রতিরোধ খুব বেশি কার্যকর নয়।

স্ট্রোকের ঝুঁকি কমিয়ে শতকরা ৮০ ভাগ স্ট্রোক প্রতিরোধ করা সম্ভব। যদিও স্ট্রোক যে কারো ক্ষেত্রে ঘটতে পারে, কিন্তু কিছু ঝুঁকি স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে। এ জন্য ব্যক্তিগত ঝুঁকিগুলো জেনে সেগুলো কমাতে পারলে এবং স্ট্রোক হওয়ার সাথে সাথে তা বুঝে ত্বরিত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে পারলে স্ট্রোকের ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

নিয়ন্ত্রণযোগ্য ঝুঁকি
উচ্চ রক্তচাপ
এট্রিয়াল ফিব্রিলেশন
রক্তে চর্বির আধিক্য
এথরোসক্লিরোসিস-শরীরে, মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহের সমস্যা
ক্যারোটিড ধমনির সমস্যা
ডায়াবেটিস
ধূমপান
মদপান
স্থূলতা (ওবেসিটি)
জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবন

অনিয়ন্ত্রণযোগ্য ঝুঁকি
আফ্রিকান-আমেরিকান মহিলা, হার্টে জন্মগত ফোরামেন ওভেল ছিদ্র ফাইব্রোমাস কুলার ডিসপ্লাসিয়া, যত বেশি বয়স তত বেশি স্ট্রোক, স্ট্রোক পরবর্তী জটিলতা এবং মৃত্যুহার অধিক বয়সে বেশি, ৪৫ বছরের উর্ধ্বে প্রতি ১০ বছরে স্ট্রোক ঝুঁকি বাড়ে দ্বিগুণ, ৪০ বছর বয়সে এক লাখে ১০ জন স্ট্রোকে মারা যায়, ৭৫ বছর বয়সে এক লাখে এক হাজার জন মারা যায়, ডায়াসটোলিক প্রেসার 5mmHg বাড়লে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে ৫০ শতাংশ, মায়োকার্ডিয়াল ইনফারকশন (হার্ট অ্যাটাক) প্রায় ৭০ শতাংশ স্ট্রোক রোগীদের ক্ষেত্রে দেখা যায় কোনো না কোনো হার্টের রোগ আছে।

একবার স্ট্রোক হলে পরবর্তীকালে স্ট্রোক প্রতিরোধে ব্যবস্থা
অ্যান্টিপ্লাটিলেট ওষুধ যেমন-এসপিরিন, ক্লপিডগ্রেল সেবন, স্ট্যাটিন-রক্তে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে অ্যান্টিকোগ্লুলেন্ট যেমন ওয়ারফেরিন সেবন (এট্রিয়াল ফিব্রিলেশনে), উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা, ক্যারোটিড অ্যান্ড আর্টারেক্টমি বা এনজিওপ্লাস্টি (ক্যারোটিড ধমনি স্টেনোসিস) হলে কিছু কিছু ঝুঁকি কমিয়ে ৮০ শতাংশ স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। ব্যক্তিগত ঝুঁকিগুলো জেনে ও স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা গেলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।

স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে ব্যবস্থা
উচ্চ রক্তচাপ হচ্ছে স্ট্রোকের বড় ঝুঁকি, যদি তা ঠিকমতো চিকিৎসা করে নিয়ন্ত্রণে না রাখা হয়। এজন্য চিকিৎসকের কাছে যেয়ে রক্তচাপ মেপে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

এট্রিয়ালফিব্রিলেশন হার্টের অস্বাভাবিক স্পন্দন যা ৫০০ শতাংশ স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। এতে হার্টে রক্তজমাট বাঁধা ত্বরান্বিত করে, ফলে স্ট্রোক হতে পারে।

ধূমপান স্ট্রোকের ঝুঁকি দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে রক্তনালীর দেয়ালে ক্ষত সৃষ্টি করে, এতে ধমনিতে প্রতিবন্ধকতা বৃদ্ধি করে রক্তচাপ বাড়িয়ে হার্টের কাজকে কঠিন করে দেয়।

কোলেস্টেরল রক্তের ভেতরে চর্বিজাতীয় পদার্থ। এটা খাবারের মাধ্যমে শরীরে আসে এবং শরীরের ভেতরেও তৈরি হয়। এই কোলেস্টেরল রক্তে বৃদ্ধি হলে ধমনিতে জমাট বেঁধে রক্তপ্রবাহ বাধা সৃষ্টি করে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

ডায়াবেটিস-চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ ও পথ্য পরিমিত গ্রহণ করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা গেলে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।


অতিরিক্ত ওজন-শরীরের ওজন বেড়ে গেলে রক্তপ্রবাহে বাধা পড়ে। নিয়মিত সপ্তাহে পাঁচ দিন কমপক্ষে আধা ঘন্টা ব্যায়াম করলে এবং কম ক্যালরি, চর্বি, লবণ গ্রহণ না করে ওজন কমানো যায়। তাছাড়া বেশি বেশি ফলমূল ও সবজি খেলেও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। ওজন কমিয়ে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে এনে স্ট্রোক প্রতিরোধ করা যায়। সূত্র: হেলথ ম্যাগাজিন, নভেম্বর ২০১৩।

Monday, November 18, 2013

5:43 AM

হাঁটাই সর্বোৎকৃষ্ট ব্যায়াম

অনেক আগে থেকেই চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা মেনে আসছেন হাঁটাই সর্বোৎকৃষ্ট ব্যায়াম। সব বয়সের মানুষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী এ ব্যায়ামটি সবচেয়ে কম খরচে শারীরিকভাবে সবচেয়ে ভালো থাকার অন্যতম উপায়। জন্মের এক বছরের মাঝেই শিখে নেয়া এ ব্যায়ামটি ঘরে-বাইরে যেকোনো জায়গায় করা যায়, ব্যক্তির শারীরিক ক্ষমতা অনুযায়ী এর তীব্রতা বাড়ানো-কমানো যায়, উপযুক্ত পোশাক এবং এক জোড়া ভালো জুতো ছাড়া এর জন্য আর কোনো অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রয়োজন পড়ে না। ব্যায়ামের উদ্দেশ্যে নিয়মিত হাঁটার স্বাস্থ্যকর উপযোগিতা অনেক।

হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ
নিয়মিত হাঁটার ফলে হৃদযন্ত্রের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ফলে হৃদযন্ত্র স্বল্প চেষ্টায় দেহে অধিক পরিমাণে রক্ত সরবরাহ করতে পারে এবং ধমনীর ওপরও চাপ কম পড়ে। ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই হাঁটা অনেকটা উচ্চ রক্তচাপরোধী ওষুধের মতোই কাজ করে। এ ছাড়া হাঁটার ফলে রক্তে খল কোলেস্টেরল নামে পরিচিত লো-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন কমে যায়। এই খল কোলেস্টেরল পরিমাণে বেড়ে গেলে তা ধমনীর গায়ে জমা হয়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৭২ হাজার নারীর ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সপ্তাহে অন্তত তিন ঘন্টা অথবা দৈনিক আধঘন্টা হাঁটেন, তাদের ক্ষেত্রে হৃদরোগ হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম।

ডায়াবেটিস ও স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস
গবেষণায় দেখে গেছে, রজ:নিবৃত্ত-পরবর্তী বয়সে যেসব মহিলা প্রতিদিন অন্তত: এক মাইল করে ব্যায়ামের উদ্দেশ্যে হাঁটেন, তাদের হাড়-ঘনত্ব কম-সচল মহিলাদের তুলনায় বেশি। হাঁটার ফলে যেমন হাড় ক্ষয়ের প্রবণতা হ্রাস পায়, তেমনি আর্থ্রাইটিসসহ হাড়ের নানা রোগের আশঙ্কাও কমে যায়। কমে যায় বয়সকালে সহজেই কোমরের হাড় ভাঙার ঝুঁকিও।

মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন
হাঁটার ফলে ভালো লাগার অনুভূতি জাগে মনে, মানসিক চাপ বোধ হয় কম। এ সময় শরীরে এন্ডোরফিন নামে রাসায়নিকের ক্রিয়া বেড়ে যায় বলে ঘুম হয় আরামদায়ক। মেডিসিন নেট ডটকম ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে গবেষকরা বলেন, প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে সপ্তাহে তিন থেকে পাঁচ মিনিট হাঁটার ফলে বিষণ্নতার উপসর্গ ৪৭ শতাংশ হ্রাস পায়। অপর এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব মহিলা সপ্তাহে অন্তত দেড় ঘন্টা হাঁটেন, তাদের বোধশক্তি সপ্তাহে ৪০ মিনিটের কম হাঁটা মহিলাদের তুলনায় বেশি।

ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস
মহিলাদের ওপর পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ব্যায়ামের উদ্দেশ্যে সপ্তাহে অন্তত দেড় থেকে আড়াই ঘন্টা হাঁটেন, তাদের স্তন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি, যারা হাঁটেন না তাদের চেয়ে ১৮ শতাংশ কম। ব্রিটিশ জার্নাল অব ক্যান্সার স্টাডিতে প্রকাশিত আরেক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাঁটার ফলে খাদ্যনালীর নিম্নাংশের ক্যান্সারের ঝুঁকি ২৫ শতাংশ হ্রাস পায়।

ওজন নিয়ন্ত্রণ, শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি
স্বাস্থ্যকর, সুষম খাবার এবং নিয়মিত হাঁটা দীর্ঘমেয়াদি ওজন নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির মূল চাবিকাঠি। হাঁটার মাধ্যমে শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এমনকি বৃদ্ধ বয়সেও সবলতা বজায় রাখার জন্য নিয়মিত হাঁটা প্রয়োজন।


হাঁটার উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না। যেকোনো ধরনের হাঁটাই উপকারী। তবে প্রকৃত সুফল পাওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন আধঘন্টা করে সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন মধ্যম গতির হাঁটার উপদেশ দেন। তবে কোনো শারীরিক অসুস্থতা থাকলে চিকৎসকের পরামর্শ মতো হাঁটার অভ্যাস করুন।

Monday, November 4, 2013

6:20 PM

হার্ট অ্যাটাকের জন্য চর্বি দায়ী


রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা ১৫০’র বেশি হলেই ধমনীর অভ্যন্তরীণ দেয়ালে তা জমতে শুরু করে এবং এক পর্যায়ে পুঞ্জীভূত হয়ে প্লাক বা পিণ্ডের মতো হয়ে সেখানে লেগে থাকে। ফলে রক্ত প্রবাহের পথ সঙ্কীর্ণ হয়ে বাধাগ্রস্ত হতে থাকে। এভাবে রক্তনালী বিশেষ করে ধমনীর পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা রক্ত প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা হৃৎপিণ্ডে ঘটলেই হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ঘটনাকে সিঁড়ির সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। অর্থাৎ কোলেস্টেরলের মাত্রা ১৫০ থেকে যত উপরে উঠবে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি তত বেশি বাড়বে। কিন্তু কোলেস্টেরলের মাত্রার এই ঊর্ধ্বগতিকে রোধ করা সম্ভব বা কমিয়ে আনাও সম্ভব। এছাড়া শুধু টোটাল কোলেস্টেরলের মাত্রা সম্পর্কে ধারণা নিলেই চলবে না সেই সঙ্গে সার্বিক কোলেস্টেরল সম্পর্কেও ধারণা রাখতে হবে। তবে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে হলে টোটাল কোলেস্টেরলের মাত্রা ১৫০’র নিচে রাখতে হবে।

ভীতিকর কোলেস্টেরল
স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছে কোলেস্টেরল একটি ভীতিকর উপাদান। বয়স চল্লিশের কোঠায় পৌঁছানোর পর রক্তের কোলেস্টেরল মাত্রা জেনে নেয়া প্রয়োজন। কারণ কোলেস্টেরল নীরবে আপনার মৃত্যু ডেকে আনতে পারে। মানুষের শরীরের যাবতীয় কর্মকান্ড পরিচালনাকারী দু’টি অঙ্গের অসুস্থতার জন্যই কোলেস্টেলকে দায়ী করা যায়। হার্ট অ্যাটাক এবং মস্তিষ্কের স্ট্রোক এ দু’য়ের জন্য অনেক সময়েই কোলেস্টেরলকে দোষারোপ করা হয়ে থাকে। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়েই অনেকের মাঝেই বিভ্রান্তি রয়েছে। কেউ কেউ রক্তে টোটাল কোলেস্টেরলের মাত্রা ২০০ মি.গ্রা/ডিএল থাকলেই সেটাকে নিরাপদ বলে মনে করেন। আসলে ব্যাপারটা কিন্তু তা নয়। টোটাল কোলেস্টেরলের মাত্রা ১৫০ মি.গ্রা/ডিএল বা তার নিচে হলে তাকে নিরাপদ মাত্রা বলা যায়। সাধারণ নিরাপদ মাত্রার কোলেস্টেরল থাকা অবস্থায় হার্ট অ্যাটাক দেখা যায় না। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোলেস্টেরলের মাত্রা ১৫০ থেকে ২০০ থাকা অবস্থায় হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কোলেস্টেরলের মাত্রা ৩০০’র চেয়ে দ্বিগুণ বেশি হতে পারে। প্রকৃতপক্ষে ১৬ বছর মেয়াদি আমেরিকার এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব লোকের কোলেস্টেরলের মাত্রা ১৫০ থেকে ২০০’র মধ্যে তাদের প্রায় শতকরা ৩৫ ভাগ হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। তাই কোলেস্টেরল নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে এ সম্পর্কে সচেতন হওয়াটাই হচ্ছে আসল কাজ। সেই সঙ্গে কোলেস্টেরল মাত্রা কমানোর ব্যবস্থাও নিতে হবে।

কোলেস্টেরল মাত্রা পুনর্গণনা
ধরুন আপনি সুস্থ আছেন কিন্তু কোলেস্টেরলের মাত্রা ১৯৮ অথবা ১৮৯। কোলেস্টেরলের এই মাত্রা নিয়ে বিমর্ষ হওয়ার কিছু নেই। দেখে নিন আপনার এইচডিএল (হাইনেসিটি লাইপোপ্রোটিন) বা ভালো কোলেস্টেরল মাত্রা। তারপর হিসেব করে নিন টোটাল কোলেস্টেরল এবং এইচডিএলের। যদি এই অনুপাত ৪ এর নিচে থাকে তবে আপনি রিলাক্স মুডে থাকতে পারেন। তখন সত্যিকার অর্থেই আপাতত হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি থেকে আপনি মুক্ত বলে ধরে নিতে পারেন। কাজেই টোটাল কোলেস্টেরল মাত্রা ২০০’র বেশি হলেই যে তা ঝুঁকিপূর্ণ হবে এক্ষেত্রে সেটা প্রযোজ্য নয়। কারণ উচ্চমাত্রার এইচডিএল (ভালো জাতের কোলেস্টেরল) হার্ট অ্যাটাকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। কিন্তু কোলেস্টেরলের মাত্রা ৩০০’র বেশি থাকাটা আসলেই খুব বেশি বলে ধরে নিতে হবে।

জেনে নিন আসল অবস্থা
কোলেস্টেরল মাত্রা বারবার পরখ করতে অনীহা করবেন না। কারণ অধিকাংশ ডাক্তারই রক্তের লিপিড প্রোফাইল জেনে নেয়ার উপদেশ দিয়ে থাকেন্ কিন্তু একটা কথা ভুলে গেলে চলবে না যে, ঝুঁকিটা হৃৎপিণ্ড নিয়ে। হৃৎপিণ্ড নিয়ে কতটুকু ঝুঁকি নেয়া উচিত হবে সে বিষয়টি অবশ্যই আপনাকে ভাবতে হবে। হৃৎপিণ্ডের করোনারি আর্টারি বা ধমনীগুলো হচ্ছে বিপজ্জনক চরিত্রের। অসুস্থ করোনারি আর্টারি আপনার কর্মচাঞ্চল্য কেড়ে নিবে। বঞ্চিত করবে আনন্দ থেকে। সবার কাছ থেকে অকালে আপনাকে সরিয়ে নিয়ে যেতে পারে। কাজেই সন্দেহ দূর করে স্বস্তিতে জীবনযাপনের জন্য কোলেস্টেরলের সার্বিক চিত্রটি জেনে নেয়া দরকার। শুধু কোলেস্টেরলের মাত্রা জানলেই চলবে না। সেই সঙ্গে জানতে হবে এইচডিএল, এলডিএল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা এবং টোটাল কোলেস্টেরল ও এইচডিএলের অনুপাত। বিশেষজ্ঞরা প্রথমবার কোলেস্টেরলের মাত্রা দেখার ৮ সপ্তাহ পর দ্বিতীয়বার কোলেস্টেরলের মাত্রা দেখে থাকেন। যদি কারও কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক থাকে তাহলে প্রতি ৫ বছর অন্তর কোলেস্টেরলের বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে হবে। আর কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক থাকলে একই পরীক্ষাগুলো ১ বছর অন্তর কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী করানো উচিত।

চর্বিযুক্ত খাবারের প্রতি লোভ নয়
অবাক ব্যাপার হচ্ছে পশুদের এথেরোস্ক্লেরোসিস কিংবা হার্ট অ্যাটাক হয়েছে বলে শোনা যায় না। যদিও অনেক পশু শুধু মাংস ভক্ষণ করেই বেঁচে থাকে। কিন্তু তারপরও পশুদের হার্ট অ্যাটাক জাতীয় রোগ হয় না। কারণ পশুর স্বল্পদৈর্ঘ্যের খাদ্যনালীটি এমনভাবে ডিজাইন করা, যা শাকসবজি হজমের জন্যই বেশি উপযোগী। যার ফলে পশুর শরীরে শোষিত কোলেস্টেরলের প্রায় পুরোটাই ভালো জাতের কোলেস্টেরল এইচডিএল। কিন্তু মানুষের পরিপাকতন্ত্র সে তুলনায় অনেক দীর্ঘ বলে অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার পর খারাপ জাতের কোলেস্টেরল-এলডিএলই বেশি শোষিত হয়। কাজেই কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানোর মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে চাইলে পশুচর্বি বর্জন করতে হবে বিশেষভাবে। এতে রক্তে খারাপ জাতের কোলেস্টেরল-এলডিএলের মাত্রা কমে যাবে। পাশাপাশি যদি শাকসবজি খাওয়ার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়া যায় সেক্ষেত্রে শাকসবজির এন্টি অক্সিডেন্ট রক্তনালীর ভেতরের দেয়ালে খারাপ জাতের কোলেস্টেরল এলডিএলের আঁঠালোভাবে লেগে থাকার প্রবণতা হ্রাস করে।

চর্বি পরিহার এবং  কোলেস্টেরল কমাতে ব্যায়াম
চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার এবং ব্যায়াম একসঙ্গে চালাতে হবে। কারণ চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চললে খারাপ জাতের কোলেস্টেরল এলডিএলের মাত্রা কমে আর অন্যদিকে ব্যায়াম করলে ভালো জাতের কোলেস্টেরল এইচডিএলের মাত্রা বাড়ে। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, ১ মি.গ্রা. এলডিএলে যে পরিমাণ ক্ষতি হয়, একই পরিমাণ এইচডিএলে তার চেয়ে তিনগুণ উপকার হয়। 

কোলেস্টেরল বলতে টোটাল কোলেস্টেরল, এইচডিএল (হাই নেসিটি লাইপোপ্রোটিন) বা ভালো কোলেস্টেরল এলডিএল’র (লো ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন) বা মন্দ কোলেস্টেরল এবং টিজি (ট্রাইগ্লিসারাইড) বোঝায়। সাধারণত কম চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া, মিষ্টি ও দুগ্ধজাত খাবার পরিহার অথবা কম খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম করলে সার্বিকভাবে রক্তের কোলেস্টেরল কমানো যায়। ভালো কোলেস্টেরল এইচডিএল হার্টের রক্তনালীতে চর্বি জমতে বাধা দেয় এবং হৃদরোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। অন্যদিকে এলডিএল বা মন্দ কোলেস্টেরল হার্টের রক্তনালীতে জমে হার্টে ব্লক সৃষ্টি করে। ফলে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, ভালো কোলেস্টেরল রক্তে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে কম থাকে। এই অতি প্রয়োজনীয় কোলেস্টেরল বাড়ানোর তেমন কোনো ওষুধ নেই। তবে নিয়মিত ব্যায়াম করলে রক্তের ভালো কোলেস্টেরল যেমন বাড়ে, তেমনি মন্দ বা ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের পরিমাণ হ্রাস পায়। তাই রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করা উচিত।

বেশি খেলে বাড়ে মেদ
খাবার গ্রহণের সময় যাতে বেশি খাওয়া না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। খাওয়ার সময় কোমরে বেল্ট পরার একটা সুবিধা আছে। খাওয়া বেশি হয়ে গেলে বেল্ট টাইট হয়ে যাবে। সুতরাং বেল্ট টাইট হলেই খাওয়া বন্ধ করে দেয়া যেতে পারে। তবে খাওয়া শেষে বেল্ট ঢিলে করে দেয়াই ভালো। ৪০ বছর বয়সের পর থেকে মোটামুটিভাবে সবারই রেডমিট বা পশুর লাল মাংস খাওয়ার ব্যাপারে সংযত হওয়া উচিত। আর যাদের উচ্চরক্তচাপ আছে, বয়সটাও ৫০’র উপরে তাদের ক্ষেত্রে সতর্কতার মাত্রা আরেকটু বেশি হবে। লাল মাংসের পাশাপাশি কলিজা এবং মগজ খাওয়া থেকেও বিরত থাকতে হবে। দেখা গেছে মুরগির কলিজায় খাসি-গরুর তুলনায় আড়াইগুণ বেশি কোলেস্টেরল থাকে। তুলনামূলক বিচারে সবচেয়ে বেশি চর্বি রয়েছে খাসির মাংসে (প্রতি ১০০ গ্রাম খাসির মাংসে ৩.৬ গ্রাম চর্বি), তারপর গরুর মাংসে (প্রতি ১০০ গ্রাম গরুর মাংসে ২.৬ গ্রাম) এবং মহিষে রয়েছে আরো কম পরিমাণ চর্বি (প্রতি ১০০ গ্রাম মহিষে ১.৯ গ্রাম চর্বি)।

কোলেস্টেরল বেশি মানেই শত্রুর সঙ্গে বসবাস
কোন নিমন্ত্রণ মানেই চর্বিযুক্ত খাবারের বিপুল সমাহার। খাওয়ার পর এই চর্বি বাসা বাঁধে মানুষের রক্তে, বেড়ে যায় রক্তের কোলেস্টেরল মাত্রা। কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকা মানেই রক্তে শত্রুর সঙ্গে বসবাস। রক্তের বাড়তি কোলেস্টেরল হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশিকে নির্জীব মৃতাবস্থায় নেয়ার জন্য উন্মুক্ত হয়ে থাকে। আর এ কারণেই নিমন্ত্রণের ভোজনে কোলেস্টেরলের কথা মনে রাখতে হবে, বিশেষ করে যাদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি কিংবা বিপদসীমার কাছাকাছি রয়েছে। উৎসব আনন্দের আতিশয্যে শত্রু কোলেস্টেরলের কথা যেন ভুলে না যান সেটাই স্মরণ করিয়ে দিতে চেয়েছি এ লেখার মাধ্যমে। সুতরাং সুস্থ থাকার জন্য লাল মাংস গ্রহণে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং সেই সঙ্গে শাকসবজি গ্রহণেও হতে হবে সচেষ্ট। কেননা-খাওয়ার জন্য না বেঁচে, বাঁচার জন্য খেতে হবে। দৈনিক আমারদেশ, ১৫ অক্টোবর, ২০১৩।